পারকিনসন মস্তিষ্কের একটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা রোগ, যাতে চলাফেরা নিয়ন্ত্রণকারী ডোপামিন নামক রাসায়নিক তৈরি করা স্নায়ুকোষগুলো কমে যায়। সাধারণত ৬০ বছরের পর দেখা দিলেও কম বয়সেও হতে পারে।
প্রধান লক্ষণ
- বিশ্রামের সময় কাঁপুনি: হাত কোলে রেখে বসে থাকলে কাঁপে, কাজ করতে গেলে কমে — প্রায়ই এক হাত দিয়ে শুরু।
- ধীরগতি: জামার বোতাম লাগানো, লেখা বা হাঁটা ধীর হয়ে যাওয়া; হাতের লেখা ছোট হয়ে আসা।
- শক্ত হয়ে যাওয়া: হাত-পা ও ঘাড় শক্ত লাগা, ব্যথা।
- হাঁটার সমস্যা: ছোট ছোট পায়ে হাঁটা, হাঁটার সময় হাত না দোলানো, ভারসাম্য হারানো।
যে লক্ষণগুলো অনেক আগেই শুরু হতে পারে
- ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া
- দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য
- ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে হাত-পা ছোড়া বা চিৎকার করা
- মুখের অভিব্যক্তি কমে যাওয়া, গলার স্বর নিচু হওয়া
- বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ
রোগ নির্ণয়
পারকিনসন রোগ মূলত একজন অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্টের শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। কোনো একক রক্ত পরীক্ষা বা MRI দিয়ে এটি নিশ্চিত হয় না, তবে অন্য কারণ বাদ দিতে কিছু পরীক্ষা লাগতে পারে।
চিকিৎসা
পারকিনসন পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও ওষুধের মাধ্যমে লক্ষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং রোগী বহু বছর সক্রিয় জীবন কাটাতে পারেন। ওষুধের মাত্রা ও সময় রোগীভেদে আলাদা, তাই নিয়মিত ফলো-আপ প্রয়োজন।
ব্যায়াম — ওষুধের মতই গুরুত্বপূর্ণ
- প্রতিদিন দ্রুত হাঁটা, বড় বড় পা ফেলে হাঁটার অভ্যাস
- স্ট্রেচিং ও ভারসাম্যের ব্যায়াম; প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি
- জোরে কথা বলা ও গান গাওয়ার অনুশীলন
- পড়ে যাওয়া রোধে ঘরের মেঝে পরিষ্কার ও শুকনো রাখা
পরিবারের সহযোগিতা পারকিনসন রোগীর মনোবল ও জীবনমান বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।