বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের অন্যতম প্রধান কারণ ব্রেন স্ট্রোক। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালী ফেটে গেলে স্ট্রোক হয়। তখন প্রতি মিনিটে লাখ লাখ স্নায়ুকোষ নষ্ট হতে থাকে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত চিনে চিকিৎসা শুরু করাই রোগীকে বাঁচানো ও পঙ্গুত্ব কমানোর একমাত্র উপায়।
BE FAST — স্ট্রোক চেনার সহজ সূত্র
- B (Balance) — ভারসাম্য: হঠাৎ মাথা ঘোরা, টলমল করা বা দাঁড়াতে না পারা।
- E (Eyes) — চোখ: এক বা দুই চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখা বা দেখতে না পাওয়া।
- F (Face) — মুখ: হাসতে বললে মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা ঝুলে পড়া।
- A (Arm) — হাত: দুই হাত সামনে তুলতে বললে একটি হাত নিচে নেমে যাওয়া বা অবশ লাগা।
- S (Speech) — কথা: কথা জড়িয়ে যাওয়া, অস্পষ্ট কথা বা কথা বুঝতে না পারা।
- T (Time) — সময়: উপরের যেকোনো লক্ষণ দেখলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে যান।
স্ট্রোক হলে যা করবেন
- রোগীকে শান্তভাবে কাত করে শুইয়ে দিন, শ্বাস চলাচল ঠিক আছে কিনা দেখুন।
- লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে তা ঘড়ি দেখে মনে রাখুন — চিকিৎসকের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- দ্রুত নিকটস্থ CT স্ক্যান সুবিধাসহ হাসপাতালে নিন অথবা ৯৯৯-এ কল করুন।
যা করবেন না
- মুখে পানি, খাবার বা ওষুধ দেবেন না — গিলতে সমস্যা থাকলে শ্বাসনালীতে চলে যেতে পারে।
- নিজে থেকে প্রেসারের ওষুধ বা অ্যাসপিরিন খাওয়াবেন না; স্ট্রোক রক্তক্ষরণজনিতও হতে পারে।
- ঝাড়-ফুঁক, তেল মালিশ বা অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করবেন না।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদরোগ (বিশেষ করে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন), অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকি। এর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ সবচেয়ে বড় কারণ — তাই নিয়মিত প্রেসার মাপুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শমত ওষুধ খান।
মিনি স্ট্রোককে অবহেলা নয়
অনেক সময় লক্ষণগুলো কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিজেই সেরে যায়। একে TIA বা মিনি স্ট্রোক বলে। এটি বড় স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত। লক্ষণ সেরে গেলেও দ্রুত একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
স্ট্রোক-পরবর্তী চিকিৎসা, পুনরায় স্ট্রোক প্রতিরোধ এবং রিহ্যাবিলিটেশন পরিকল্পনার জন্য গাইবান্ধা বা সোনারগাঁ চেম্বারে ডাঃ আল-মাহামুদুল আলম মিমোর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।