মৃগীরোগ বা এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি সাধারণ স্নায়বিক রোগ, যাতে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয় এবং বারবার খিঁচুনি হয়। আমাদের সমাজে এখনো অনেকে একে জ্বিন-ভূতের আছর মনে করেন — যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মৃগীরোগ চিকিৎসাযোগ্য এবং প্রায় ৭০% রোগী নিয়মিত ওষুধে খিঁচুনিমুক্ত থাকেন।
খিঁচুনির ধরন
- পুরো শরীর শক্ত হয়ে ঝাঁকুনি, মুখে ফেনা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- কিছুক্ষণের জন্য একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা, সাড়া না দেওয়া (শিশুদের মধ্যে বেশি)
- শরীরের একটি অংশে ঝাঁকুনি বা অদ্ভুত অনুভূতি
- হঠাৎ হাত-পা ঝাঁকি দিয়ে ওঠা
খিঁচুনি হলে যা করবেন
- শান্ত থাকুন, সময় দেখুন — খিঁচুনি কতক্ষণ চলছে তা গুরুত্বপূর্ণ।
- আশেপাশের ধারালো বা শক্ত জিনিস সরিয়ে দিন, মাথার নিচে নরম কিছু দিন।
- খিঁচুনি থামলে রোগীকে এক পাশে কাত করে দিন, যাতে মুখের লালা বেরিয়ে যায়।
- পুরোপুরি জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত পাশে থাকুন।
যা কখনোই করবেন না
- মুখে চামচ, আঙুল বা কাপড় ঢোকাবেন না
- জোর করে হাত-পা চেপে ধরবেন না
- জুতা বা পেঁয়াজ শোঁকাবেন না — এতে কোনো উপকার নেই
- জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত পানি বা খাবার দেবেন না
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
খিঁচুনির সঠিক বর্ণনা রোগ নির্ণয়ের সবচেয়ে বড় সহায়ক। সম্ভব হলে খিঁচুনির সময়ের একটি মোবাইল ভিডিও করে রাখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী EEG ও MRI করা হয়। খিঁচুনির ধরন, বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা — চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনো ওষুধ বন্ধ করবেন না। হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করলে মারাত্মক খিঁচুনি হতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনে সতর্কতা
- পর্যাপ্ত ঘুমান; রাত জাগা খিঁচুনি বাড়ায়
- একা পুকুরে গোসল, সাঁতার, উঁচু জায়গায় কাজ ও আগুনের কাছে একা কাজ এড়িয়ে চলুন
- খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না
- গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে আগেই চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন
সঠিক চিকিৎসায় মৃগীরোগী পড়াশোনা, চাকরি, বিয়ে — সবই স্বাভাবিকভাবে করতে পারেন।