মাইগ্রেন শুধু সাধারণ মাথাব্যথা নয় — এটি মস্তিষ্কের একটি স্নায়বিক রোগ। বাংলায় একে অনেকে আধকপালি বলেন, কারণ প্রায়ই মাথার এক পাশে দপদপ করে ব্যথা হয়। নারীদের মধ্যে মাইগ্রেন পুরুষদের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি দেখা যায়।
মাইগ্রেনের লক্ষণ
- মাথার এক বা দুই পাশে দপদপে, মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা যা ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা থাকতে পারে
- বমিভাব বা বমি
- আলো ও শব্দ সহ্য করতে না পারা
- হাঁটাচলা বা কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
- কারও কারও ব্যথার আগে চোখে আঁকাবাঁকা আলো বা ঝিলিক দেখা যায় — একে অরা বলে
সাধারণ ট্রিগার বা ব্যথা বাড়ানোর কারণ
- ঘুম কম বা বেশি হওয়া, রাত জাগা
- দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা
- মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা
- কড়া রোদ, তীব্র আলো, উচ্চ শব্দ বা কড়া গন্ধ
- মাসিকের সময় হরমোনের পরিবর্তন
- অতিরিক্ত চা-কফি বা হঠাৎ বন্ধ করা, চকলেট, পনির, প্রক্রিয়াজাত খাবার (সবার ক্ষেত্রে নয়)
চিকিৎসা কীভাবে হয়
মাইগ্রেনের চিকিৎসা দুই ভাগে হয়। প্রথমত, ব্যথার সময়ের চিকিৎসা — ব্যথা শুরু হওয়ার সাথে সাথে উপযুক্ত ওষুধ খেলে ভালো কাজ করে। দ্বিতীয়ত, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা — মাসে চার বা তার বেশি দিন ব্যথা হলে বা ব্যথায় কাজকর্ম ব্যাহত হলে নিয়মিত কিছু ওষুধ দেওয়া হয়, যা ব্যথার সংখ্যা ও তীব্রতা কমায়।
সাবধান: মাসে ১০-১৫ দিনের বেশি ব্যথানাশক খেলে উল্টো “মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক” হতে পারে। তাই নিজে নিজে বারবার ব্যথার ওষুধ খাবেন না।
জীবনযাপনে যা বদলাবেন
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমান ও ঘুম থেকে উঠুন
- নিয়মিত সময়ে খাবার খান, পর্যাপ্ত পানি পান করুন
- সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করুন
- মোবাইল-কম্পিউটারের স্ক্রিনে বিরতি নিন
বারবার মাথাব্যথা হলে তা অবহেলা না করে একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। সঠিক রোগ নির্ণয় ও পরিকল্পিত চিকিৎসায় বেশিরভাগ মাইগ্রেন রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।