বাংলাদেশে প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন রক্তে সুগার বেশি থাকলে শরীরের স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় — একে বলে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি। ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় অর্ধেকই জীবনের কোনো এক সময় এ সমস্যায় ভোগেন।
লক্ষণগুলো কী?
- পায়ের তালু ও আঙুলে ঝিনঝিন, সুঁই ফোটার মত বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি — রাতে বেশি
- পা অবশ লাগা, মোজা বা স্যান্ডেল পরা আছে কিনা বুঝতে না পারা
- হাঁটতে ভারসাম্যহীনতা
- পায়ে ক্ষত হলেও ব্যথা টের না পাওয়া
- পরবর্তী পর্যায়ে হাতেও একই সমস্যা
- কারও কারও মাথা ঘোরা (দাঁড়ালে প্রেসার কমে যাওয়া), হজমের সমস্যা বা প্রস্রাবের সমস্যা
রোগ নির্ণয়
শারীরিক পরীক্ষা (অনুভূতি, রিফ্লেক্স, কম্পন অনুভূতি) এবং প্রয়োজনে NCS (নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি) পরীক্ষার মাধ্যমে নিউরোপ্যাথি নিশ্চিত করা হয়। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, থাইরয়েড বা কিডনির সমস্যার মত অন্যান্য কারণও বাদ দিতে হয়, কারণ ডায়াবেটিসের ওষুধ মেটফরমিন দীর্ঘদিন খেলে বি১২ কমে যেতে পারে।
চিকিৎসা
- সুগার নিয়ন্ত্রণ: নিউরোপ্যাথির অগ্রগতি থামানোর মূল উপায়। HbA1c সাধারণত ৭%-এর নিচে রাখার চেষ্টা করা হয়।
- ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার ওষুধ: সাধারণ ব্যথানাশক এ ব্যথায় তেমন কাজ করে না; স্নায়ুর ব্যথার জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
- ঝুঁকি কমানো: ধূমপান বর্জন, প্রেসার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ।
পায়ের যত্নের ৭টি নিয়ম
- প্রতিদিন রাতে আয়না দিয়ে পায়ের তালু দেখুন
- খালি পায়ে কখনো হাঁটবেন না, এমনকি ঘরেও না
- নরম, আরামদায়ক ও মাপমত জুতা পরুন
- কুসুম গরম পানিতে পা ধুয়ে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকান
- গরম পানির ব্যাগ বা আগুনে পা সেঁকবেন না
- নখ সোজা করে কাটুন
- কোনো ক্ষত দেখলে দেরি না করে চিকিৎসককে দেখান
ডাঃ আল-মাহামুদুল আলম মিমো নিউরো মেডিসিনের পাশাপাশি ডায়াবেটোলজিতে (সি.সি.ডি) প্রশিক্ষিত, তাই সুগার নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুর চিকিৎসা একসাথে পরিকল্পনা করা হয়।