“মাথা ঘোরে” — চেম্বারে এটি অন্যতম সাধারণ অভিযোগ। তবে মাথা ঘোরা বলতে একেকজন একেক জিনিস বোঝান। চারপাশ বা নিজে ঘুরছেন মনে হলে তাকে বলে ভার্টিগো। আবার মাথা হালকা লাগা, চোখে অন্ধকার দেখা বা টলমল করাও “মাথা ঘোরা” হিসেবে বলা হয়। সঠিক বর্ণনা কারণ খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
ভার্টিগোর সাধারণ কারণ
- BPPV: কানের ভেতরের ভারসাম্য অঙ্গে ক্ষুদ্র ক্যালসিয়াম কণা সরে যাওয়া। বিছানায় পাশ ফিরলে বা মাথা উঁচু-নিচু করলে কয়েক সেকেন্ডের তীব্র ঘূর্ণি — সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- ভেস্টিবুলার নিউরাইটিস: সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের পর কয়েক দিনব্যাপী তীব্র মাথা ঘোরা ও বমি।
- মেনিয়ার্স ডিজিজ: মাথা ঘোরার সাথে কানে শোঁ শোঁ শব্দ, কান ভারী লাগা ও শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া।
- ভেস্টিবুলার মাইগ্রেন: মাইগ্রেনের রোগীদের মাথাব্যথার সাথে বা ছাড়াই মাথা ঘোরা।
- রক্তস্বল্পতা, প্রেসার কমে যাওয়া, সুগার কমে যাওয়া, পানিশূন্যতা ও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
রোগ নির্ণয়
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিস্তারিত ইতিহাস ও চেম্বারে কিছু বিশেষ শারীরিক পরীক্ষা (যেমন চোখের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ, Dix-Hallpike টেস্ট) দিয়েই কারণ বোঝা যায়। প্রয়োজনে MRI বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা
কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন। BPPV-তে ওষুধের চেয়ে মাথার বিশেষ ব্যায়াম (Epley maneuver) বেশি কার্যকর, যা চেম্বারেই করা যায়। দীর্ঘদিন মাথা ঘোরার ওষুধ খেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ দীর্ঘদিন খাবেন না।
ঘরে যা করবেন
- মাথা ঘোরা শুরু হলে সাথে সাথে বসে বা শুয়ে পড়ুন
- ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠুন — আগে বসুন, তারপর দাঁড়ান
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন, লবণ ও ক্যাফেইন পরিমিত রাখুন
- বয়স্কদের পড়ে যাওয়া রোধে ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাথরুমে হাতল রাখুন
বারবার মাথা ঘোরা হলে একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শে সঠিক কারণ খুঁজে চিকিৎসা নিন।