বিএমডিসি রেজি. নং A68297 গাইবান্ধা — শুক্রবার · সোনারগাঁ — সোমবার সিরিয়াল: ০১৭৩৮-৭৩৭৩৩৮
Dr. Al-Mahamudul Alam Mimo — Neurology Specialist logo
স্ট্রোক

স্ট্রোকের পর বাড়িতে যত্ন: দ্রুত সেরে ওঠার জন্য পরিবারের করণীয়

স্ট্রোক-পরবর্তী রোগীর খাওয়ানো, বিছানার ঘা প্রতিরোধ, ফিজিওথেরাপি, ওষুধ ও মানসিক যত্ন — বাড়িতে পরিবারের জন্য ব্যবহারিক গাইড।

হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া মানেই চিকিৎসা শেষ নয় — বরং স্ট্রোক থেকে সেরে ওঠার আসল যাত্রা শুরু হয় বাড়িতে। প্রথম তিন থেকে ছয় মাস মস্তিষ্ক নিজেকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা রাখে। এই সময়ে সঠিক যত্ন ও ব্যায়াম রোগীর ভবিষ্যৎ জীবনমান অনেকখানি নির্ধারণ করে।

১. খাওয়ানোর সময় সতর্কতা

  • স্ট্রোকের পর অনেকের গিলতে সমস্যা হয়। খাবার ও পানি শ্বাসনালীতে গেলে নিউমোনিয়া হতে পারে।
  • রোগীকে সোজা করে বসিয়ে ধীরে ধীরে, অল্প অল্প করে খাওয়ান
  • খাওয়ার সময় কাশি বা গলায় আটকে যাওয়া হলে চিকিৎসককে জানান; প্রয়োজনে নরম বা ঘন খাবার দিতে হয়
  • খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট বসিয়ে রাখুন

২. বিছানার ঘা (বেড সোর) প্রতিরোধ

  • প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর রোগীর পাশ বদলে দিন
  • কোমর, নিতম্ব, গোড়ালি ও কনুই নিয়মিত দেখুন — লালচে দাগ ঘা-এর শুরু
  • বিছানা শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন; সম্ভব হলে এয়ার ম্যাট্রেস ব্যবহার করুন

৩. ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম

দুর্বল হাত-পা নিয়মিত নাড়াচড়া না করলে জোড়া শক্ত হয়ে যায় এবং মাংসপেশি শুকিয়ে যায়। ফিজিওথেরাপিস্টের দেখানো ব্যায়াম প্রতিদিন কয়েকবার করান। রোগীকে যতটা সম্ভব নিজের কাজ নিজে করতে উৎসাহ দিন — দুর্বল হাত দিয়ে চামচ ধরা, চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি।

মনে রাখুন: অবশ কাঁধে টান দিয়ে রোগীকে তুলবেন না — এতে কাঁধের জোড়া সরে গিয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। কোমর ও পিঠে সাপোর্ট দিয়ে তুলুন।

৪. ওষুধ নিয়মিত ও সময়মত

রক্ত পাতলা করার ওষুধ, প্রেসার, সুগার ও কোলেস্টেরলের ওষুধ দ্বিতীয়বার স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না। একটি ওষুধের তালিকা ও সময়সূচি দেয়ালে লাগিয়ে রাখুন।

৫. কথা বলা ও মানসিক যত্ন

  • কথা বলতে সমস্যা হলে ধৈর্য ধরে ছোট ছোট প্রশ্ন করুন; ছবি বা ইশারা ব্যবহার করুন
  • স্ট্রোকের পর বিষণ্ণতা খুবই সাধারণ — হঠাৎ কান্না, আগ্রহ হারানো বা খিটখিটে মেজাজ দেখলে চিকিৎসককে জানান
  • রোগীকে পরিবারের আলোচনা ও কাজে অংশ নিতে দিন

৬. কখন দ্রুত হাসপাতালে নেবেন

  • নতুন করে দুর্বলতা, কথা জড়ানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
  • খিঁচুনি
  • জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট
  • পায়ে হঠাৎ ফোলা ও ব্যথা

নিয়মিত ফলো-আপে চিকিৎসক রোগীর উন্নতি মূল্যায়ন করে ওষুধ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজনমত বদলে দেন। ধৈর্য, ভালোবাসা ও নিয়মিত যত্নই স্ট্রোক রোগীর সবচেয়ে বড় ওষুধ।

এই লেখাটি শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে। নিজে নিজে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না — চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Read this article in English

আরও পড়ুন

স্ট্রোক

স্ট্রোকের লক্ষণ: BE FAST দিয়ে চিনুন, প্রতিটি মিনিট বাঁচান

স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ কী, BE FAST পদ্ধতিতে কীভাবে চিনবেন এবং স্ট্রোক হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কী করবেন — নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া
মাইগ্রেন

মাইগ্রেন: কারণ, ট্রিগার ও কার্যকর চিকিৎসা

আধকপালি বা মাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয়, কোন খাবার ও অভ্যাস ব্যথা বাড়ায় এবং ওষুধ ও জীবনযাপনের পরিবর্তনে কীভাবে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

১৭ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া
মৃগীরোগ

মৃগীরোগ ও খিঁচুনি: ভুল ধারণা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও করণীয়

খিঁচুনি হলে কী করবেন আর কী করবেন না, মৃগীরোগ কেন হয় এবং নিয়মিত চিকিৎসায় কীভাবে স্বাভাবিক জীবন সম্ভব — নিউরোলজিস্টের পরামর্শ।

১০ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া