হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া মানেই চিকিৎসা শেষ নয় — বরং স্ট্রোক থেকে সেরে ওঠার আসল যাত্রা শুরু হয় বাড়িতে। প্রথম তিন থেকে ছয় মাস মস্তিষ্ক নিজেকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বেশি সক্ষমতা রাখে। এই সময়ে সঠিক যত্ন ও ব্যায়াম রোগীর ভবিষ্যৎ জীবনমান অনেকখানি নির্ধারণ করে।
১. খাওয়ানোর সময় সতর্কতা
- স্ট্রোকের পর অনেকের গিলতে সমস্যা হয়। খাবার ও পানি শ্বাসনালীতে গেলে নিউমোনিয়া হতে পারে।
- রোগীকে সোজা করে বসিয়ে ধীরে ধীরে, অল্প অল্প করে খাওয়ান
- খাওয়ার সময় কাশি বা গলায় আটকে যাওয়া হলে চিকিৎসককে জানান; প্রয়োজনে নরম বা ঘন খাবার দিতে হয়
- খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট বসিয়ে রাখুন
২. বিছানার ঘা (বেড সোর) প্রতিরোধ
- প্রতি ২ ঘণ্টা পর পর রোগীর পাশ বদলে দিন
- কোমর, নিতম্ব, গোড়ালি ও কনুই নিয়মিত দেখুন — লালচে দাগ ঘা-এর শুরু
- বিছানা শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন; সম্ভব হলে এয়ার ম্যাট্রেস ব্যবহার করুন
৩. ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম
দুর্বল হাত-পা নিয়মিত নাড়াচড়া না করলে জোড়া শক্ত হয়ে যায় এবং মাংসপেশি শুকিয়ে যায়। ফিজিওথেরাপিস্টের দেখানো ব্যায়াম প্রতিদিন কয়েকবার করান। রোগীকে যতটা সম্ভব নিজের কাজ নিজে করতে উৎসাহ দিন — দুর্বল হাত দিয়ে চামচ ধরা, চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি।
৪. ওষুধ নিয়মিত ও সময়মত
রক্ত পাতলা করার ওষুধ, প্রেসার, সুগার ও কোলেস্টেরলের ওষুধ দ্বিতীয়বার স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করবেন না। একটি ওষুধের তালিকা ও সময়সূচি দেয়ালে লাগিয়ে রাখুন।
৫. কথা বলা ও মানসিক যত্ন
- কথা বলতে সমস্যা হলে ধৈর্য ধরে ছোট ছোট প্রশ্ন করুন; ছবি বা ইশারা ব্যবহার করুন
- স্ট্রোকের পর বিষণ্ণতা খুবই সাধারণ — হঠাৎ কান্না, আগ্রহ হারানো বা খিটখিটে মেজাজ দেখলে চিকিৎসককে জানান
- রোগীকে পরিবারের আলোচনা ও কাজে অংশ নিতে দিন
৬. কখন দ্রুত হাসপাতালে নেবেন
- নতুন করে দুর্বলতা, কথা জড়ানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- খিঁচুনি
- জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট
- পায়ে হঠাৎ ফোলা ও ব্যথা
নিয়মিত ফলো-আপে চিকিৎসক রোগীর উন্নতি মূল্যায়ন করে ওষুধ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রয়োজনমত বদলে দেন। ধৈর্য, ভালোবাসা ও নিয়মিত যত্নই স্ট্রোক রোগীর সবচেয়ে বড় ওষুধ।