বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অধিকাংশ স্ট্রোকই প্রতিরোধযোগ্য। স্ট্রোক হঠাৎ হলেও এর পেছনের ঝুঁকিগুলো বছরের পর বছর ধরে নীরবে তৈরি হয়। নিচের ১০টি পদক্ষেপ মেনে চললে আপনি ও আপনার পরিবারের স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকখানি কমাতে পারেন।
১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ। এটিকে বলে “নীরব ঘাতক”, কারণ বেশিরভাগ সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। ৩০ বছরের পর অন্তত বছরে একবার, আর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত বাসায় প্রেসার মাপুন। সাধারণত লক্ষ্য থাকে ১৩০/৮০-এর নিচে, তবে আপনার জন্য সঠিক লক্ষ্য চিকিৎসক ঠিক করবেন।
২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ডায়াবেটিস রক্তনালীর ক্ষতি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ করে। নিয়মিত সুগার ও HbA1c পরীক্ষা করুন।
৩. ধূমপান ও জর্দা-গুল বর্জন করুন
ধূমপান ও তামাক রক্তনালী সরু ও শক্ত করে। ছেড়ে দেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
৪. লবণ কম খান
পাতে বাড়তি লবণ, চানাচুর, চিপস, আচার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। দিনে এক চা-চামচের কম লবণ যথেষ্ট।
৫. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ডালডা ও বারবার ব্যবহৃত তেল কমান। প্রয়োজনে চিকিৎসক কোলেস্টেরলের ওষুধ দেবেন।
৬. প্রতিদিন হাঁটুন
সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা রক্তচাপ, সুগার ও ওজন — তিনটিই কমায়।
৭. ওজন নিয়ন্ত্রণ
বিশেষ করে পেটের মেদ কমানো জরুরি। পুরুষের কোমরের মাপ ৯০ সেমি ও নারীর ৮০ সেমির নিচে রাখার চেষ্টা করুন।
৮. হৃদরোগের চিকিৎসা নিন
অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন) থাকলে হৃদপিণ্ডে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে যেতে পারে। বুক ধড়ফড় করলে ইসিজি করান।
৯. শাকসবজি ও ফল খান
প্রতিদিন রঙিন শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল ও মাছ খাদ্যতালিকায় রাখুন।
১০. মিনি স্ট্রোককে গুরুত্ব দিন
কয়েক মিনিটের জন্য মুখ বেঁকে যাওয়া বা হাত অবশ হয়ে আবার ঠিক হয়ে যাওয়া বড় স্ট্রোকের পূর্বাভাস। দ্রুত নিউরোলজিস্ট দেখান।
একবার স্ট্রোক হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই স্ট্রোক-পরবর্তী নিয়মিত ফলো-আপ ও ওষুধ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।