বিএমডিসি রেজি. নং A68297 গাইবান্ধা — শুক্রবার · সোনারগাঁ — সোমবার সিরিয়াল: ০১৭৩৮-৭৩৭৩৩৮
Dr. Al-Mahamudul Alam Mimo — Neurology Specialist logo
স্ট্রোক

স্ট্রোক প্রতিরোধের ১০টি উপায়: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণই প্রথম ধাপ

প্রায় ৮০% স্ট্রোক প্রতিরোধযোগ্য। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান ও জীবনযাপন নিয়ন্ত্রণে কীভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অধিকাংশ স্ট্রোকই প্রতিরোধযোগ্য। স্ট্রোক হঠাৎ হলেও এর পেছনের ঝুঁকিগুলো বছরের পর বছর ধরে নীরবে তৈরি হয়। নিচের ১০টি পদক্ষেপ মেনে চললে আপনি ও আপনার পরিবারের স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকখানি কমাতে পারেন।

১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় কারণ। এটিকে বলে “নীরব ঘাতক”, কারণ বেশিরভাগ সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। ৩০ বছরের পর অন্তত বছরে একবার, আর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত বাসায় প্রেসার মাপুন। সাধারণত লক্ষ্য থাকে ১৩০/৮০-এর নিচে, তবে আপনার জন্য সঠিক লক্ষ্য চিকিৎসক ঠিক করবেন।

সবচেয়ে বড় ভুল: প্রেসার স্বাভাবিক হয়ে গেলে নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা। ওষুধ খাচ্ছেন বলেই প্রেসার স্বাভাবিক — বন্ধ করলে আবার বাড়বে।

২. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

ডায়াবেটিস রক্তনালীর ক্ষতি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ করে। নিয়মিত সুগার ও HbA1c পরীক্ষা করুন।

৩. ধূমপান ও জর্দা-গুল বর্জন করুন

ধূমপান ও তামাক রক্তনালী সরু ও শক্ত করে। ছেড়ে দেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

৪. লবণ কম খান

পাতে বাড়তি লবণ, চানাচুর, চিপস, আচার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। দিনে এক চা-চামচের কম লবণ যথেষ্ট।

৫. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ডালডা ও বারবার ব্যবহৃত তেল কমান। প্রয়োজনে চিকিৎসক কোলেস্টেরলের ওষুধ দেবেন।

৬. প্রতিদিন হাঁটুন

সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা রক্তচাপ, সুগার ও ওজন — তিনটিই কমায়।

৭. ওজন নিয়ন্ত্রণ

বিশেষ করে পেটের মেদ কমানো জরুরি। পুরুষের কোমরের মাপ ৯০ সেমি ও নারীর ৮০ সেমির নিচে রাখার চেষ্টা করুন।

৮. হৃদরোগের চিকিৎসা নিন

অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন) থাকলে হৃদপিণ্ডে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে যেতে পারে। বুক ধড়ফড় করলে ইসিজি করান।

৯. শাকসবজি ও ফল খান

প্রতিদিন রঙিন শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ডাল ও মাছ খাদ্যতালিকায় রাখুন।

১০. মিনি স্ট্রোককে গুরুত্ব দিন

কয়েক মিনিটের জন্য মুখ বেঁকে যাওয়া বা হাত অবশ হয়ে আবার ঠিক হয়ে যাওয়া বড় স্ট্রোকের পূর্বাভাস। দ্রুত নিউরোলজিস্ট দেখান।

একবার স্ট্রোক হয়ে গেলে দ্বিতীয়বার স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই স্ট্রোক-পরবর্তী নিয়মিত ফলো-আপ ও ওষুধ চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এই লেখাটি শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে। নিজে নিজে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না — চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Read this article in English

আরও পড়ুন

স্ট্রোক

স্ট্রোকের লক্ষণ: BE FAST দিয়ে চিনুন, প্রতিটি মিনিট বাঁচান

স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ কী, BE FAST পদ্ধতিতে কীভাবে চিনবেন এবং স্ট্রোক হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় কী করবেন — নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।

২৪ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া
মাইগ্রেন

মাইগ্রেন: কারণ, ট্রিগার ও কার্যকর চিকিৎসা

আধকপালি বা মাইগ্রেনের ব্যথা কেন হয়, কোন খাবার ও অভ্যাস ব্যথা বাড়ায় এবং ওষুধ ও জীবনযাপনের পরিবর্তনে কীভাবে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

১৭ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া
মৃগীরোগ

মৃগীরোগ ও খিঁচুনি: ভুল ধারণা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও করণীয়

খিঁচুনি হলে কী করবেন আর কী করবেন না, মৃগীরোগ কেন হয় এবং নিয়মিত চিকিৎসায় কীভাবে স্বাভাবিক জীবন সম্ভব — নিউরোলজিস্টের পরামর্শ।

১০ অক্টোবর ২০২৬ · ২ মিনিট পড়া