ঘুম শুধু বিশ্রাম নয় — ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের স্মৃতি গুছিয়ে রাখে এবং ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার করে। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
ঘুম কম হলে কী হয়?
- মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ
- মাইগ্রেন ও মৃগীরোগীদের অ্যাটাক বেড়ে যাওয়া
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি
- বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ
- দীর্ঘমেয়াদে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে
যে ঘুমের সমস্যাগুলো অবহেলা করবেন না
- স্লিপ অ্যাপনিয়া: জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যাওয়া, দিনে অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া। এটি উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
- রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম: রাতে শুয়ে থাকলে পায়ে অস্বস্তি ও নাড়াতে ইচ্ছা করা। আয়রনের ঘাটতির সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে।
- ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখে হাত-পা ছোড়া: কখনো কখনো পারকিনসন রোগের আগাম সংকেত হতে পারে।
- দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা: সপ্তাহে তিন রাতের বেশি, তিন মাসের বেশি সময় ধরে ঘুমের সমস্যা।
ভালো ঘুমের ১০টি অভ্যাস
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান ও উঠুন — ছুটির দিনেও
- ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপ বন্ধ করুন
- শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখুন
- বিকেল ৩টার পর চা-কফি এড়িয়ে চলুন
- রাতে ভারী ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাবেন না; ঘুমের ২-৩ ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করুন
- দিনে নিয়মিত হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন, তবে ঘুমের ঠিক আগে নয়
- সকালে কিছুক্ষণ রোদে থাকুন — শরীরের ঘড়ি ঠিক থাকে
- দিনে ঘুমালে ২০-৩০ মিনিটের বেশি নয়
- ২০ মিনিটেও ঘুম না এলে উঠে হালকা আলোয় বই পড়ুন, ঘুম পেলে বিছানায় যান
- ধূমপান ও জর্দা বর্জন করুন
এসব অভ্যাস মেনেও ঘুমের সমস্যা না কমলে, বা নাক ডাকা ও দিনে অতিরিক্ত ঘুম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।