কোমর ব্যথা প্রায় সবারই জীবনে কোনো না কোনো সময় হয়। কিন্তু ব্যথা যখন কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের পেছন দিক দিয়ে নিচে নামে, সাথে ঝিনঝিন বা অবশভাব থাকে — তখন তা সাধারণত সায়াটিকা, অর্থাৎ স্নায়ুর উপর চাপজনিত ব্যথা।
সায়াটিকার কারণ
- ডিস্ক প্রল্যাপস (PLID): মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝের নরম ডিস্ক সরে গিয়ে স্নায়ুতে চাপ দেয় — সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
- বয়সজনিত হাড় ক্ষয় ও স্পন্ডাইলোসিস
- মেরুদণ্ডের নালী সরু হয়ে যাওয়া (স্পাইনাল স্টেনোসিস) — হাঁটলে পা ভারী ও ব্যথা, বসলে আরাম
- ভারী জিনিস ভুলভাবে তোলা, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ, অতিরিক্ত ওজন
লক্ষণ
- কোমর থেকে এক পায়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র, বিদ্যুতের মত ব্যথা
- পায়ে ঝিনঝিন বা অবশভাব
- হাঁচি-কাশি দিলে বা সামনে ঝুঁকলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া
- পায়ের পাতা বা আঙুল দুর্বল হয়ে যাওয়া
ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা
একইভাবে ঘাড়ের ডিস্ক বা হাড় ক্ষয় (সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস) থেকে স্নায়ুতে চাপ পড়লে ঘাড় থেকে কাঁধ হয়ে হাতে ব্যথা ও ঝিনঝিন হয়।
চিকিৎসা
সুখবর হলো, প্রায় ৮০-৯০% সায়াটিকা অপারেশন ছাড়াই কয়েক সপ্তাহে ভালো হয়ে যায়। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুর ব্যথা ও প্রদাহ কমানোর উপযুক্ত ওষুধ
- অল্প কয়েকদিন বিশ্রাম — তবে দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকা ক্ষতিকর
- ব্যথা কমলে ফিজিওথেরাপি ও মেরুদণ্ড শক্ত করার ব্যায়াম
- সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও ভারী জিনিস তোলার নিয়ম মেনে চলা
পায়ে দুর্বলতা বাড়তে থাকলে, দীর্ঘদিন চিকিৎসাতেও উন্নতি না হলে বা জরুরি লক্ষণ থাকলে MRI করে নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া হয়।
প্রতিরোধে যা করবেন
- ভারী জিনিস তুলতে কোমর না বাঁকিয়ে হাঁটু ভাঁজ করে বসে তুলুন
- একটানা বেশিক্ষণ বসে থাকলে প্রতি ৩০-৪০ মিনিটে উঠে হাঁটুন
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিয়মিত হাঁটুন
- খুব নরম বা ঝোলা বিছানা এড়িয়ে চলুন