অনেকক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে থাকলে পা “ঘুমিয়ে” যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই বারবার বা দীর্ঘদিন হাত-পা ঝিনঝিন, জ্বালাপোড়া বা অবশ লাগলে তা স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
সাধারণ ৭টি কারণ
- ডায়াবেটিস: দীর্ঘদিন সুগার অনিয়ন্ত্রিত থাকলে দুই পায়ের তালু থেকে শুরু হয়ে ধীরে উপরের দিকে ছড়ায়।
- ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি: নিরামিষভোজী, বয়স্ক, দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বা মেটফরমিন সেবনকারীদের মধ্যে বেশি। সাথে দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা ও ভুলে যাওয়া থাকতে পারে।
- কারপাল টানেল সিনড্রোম: কবজিতে স্নায়ুতে চাপ পড়ে বুড়ো আঙুল থেকে অনামিকা পর্যন্ত ঝিনঝিন, বিশেষ করে রাতে বা মোবাইল ধরলে। গৃহিণী, সেলাইকর্মী ও কম্পিউটারে কাজ করা মানুষের মধ্যে বেশি।
- ঘাড় ও কোমরের স্নায়ুতে চাপ: ঘাড় থেকে হাতে বা কোমর থেকে পায়ে ব্যথাসহ ঝিনঝিন।
- থাইরয়েড ও কিডনির রোগ।
- অ্যালকোহল ও কিছু ওষুধ: যক্ষ্মা, ক্যান্সার বা অন্য কিছু রোগের ওষুধে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- দুশ্চিন্তা ও প্যানিক অ্যাটাক: দ্রুত শ্বাস নিলে ঠোঁট ও আঙুলে সাময়িক ঝিনঝিন।
কী কী পরীক্ষা লাগতে পারে
- রক্তে সুগার, HbA1c, ভিটামিন বি১২, থাইরয়েড ও কিডনি পরীক্ষা
- স্নায়ুর কার্যকারিতা দেখতে NCS/EMG
- প্রয়োজনে ঘাড় বা কোমরের MRI
চিকিৎসা
চিকিৎসা কারণের উপর নির্ভর করে — বি১২ ঘাটতিতে ভিটামিন পূরণ, কারপাল টানেলে কবজির স্প্লিন্ট ও প্রয়োজনে ছোট অপারেশন, ডায়াবেটিসে সুগার নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুর ব্যথার ওষুধ। তাই নিজে নিজে “নার্ভের ভিটামিন” খেয়ে সময় নষ্ট না করে সঠিক কারণ খুঁজে বের করুন।