মাথাব্যথা হলেই অনেকে ভয় পান — ব্রেন টিউমার নয় তো? আশার কথা হলো, বেশিরভাগ মাথাব্যথাই প্রাইমারি হেডেক, অর্থাৎ মস্তিষ্কে কোনো গঠনগত রোগ ছাড়াই হয়। তবে কিছু বিপদ সংকেত চেনা জরুরি।
সাধারণ মাথাব্যথার ধরন
- টেনশন টাইপ হেডেক: সবচেয়ে সাধারণ। পুরো মাথায় বা কপালে চাপ বা ব্যান্ড বাঁধার মত ব্যথা; মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে কাজ করলে বাড়ে।
- মাইগ্রেন: এক পাশে দপদপে ব্যথা, বমিভাব, আলো-শব্দে অস্বস্তি।
- ক্লাস্টার হেডেক: এক চোখের চারপাশে অসহ্য তীব্র ব্যথা, চোখ লাল ও পানি পড়া; প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে।
- ওষুধ বেশি খাওয়াজনিত মাথাব্যথা: ঘন ঘন ব্যথানাশক খেলে উল্টো প্রতিদিন মাথাব্যথা।
৮টি বিপদ সংকেত — দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান
- জীবনের সবচেয়ে তীব্র, হঠাৎ “বজ্রপাতের মত” মাথাব্যথা
- মাথাব্যথার সাথে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা গায়ে র্যাশ
- মাথাব্যথার সাথে খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া বা বিভ্রান্তি
- হাত-পা দুর্বল, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টি সমস্যা
- ৫০ বছরের পর প্রথমবার নতুন ধরনের মাথাব্যথা
- দিন দিন বাড়তে থাকা মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে উঠে বমিসহ
- মাথায় আঘাতের পর মাথাব্যথা
- ক্যান্সার, এইচআইভি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন রোগীর নতুন মাথাব্যথা
মাথাব্যথা কমাতে দৈনন্দিন অভ্যাস
- পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম
- সময়মত খাবার ও যথেষ্ট পানি পান
- স্ক্রিনে কাজের সময় প্রতি ২০ মিনিটে চোখকে বিশ্রাম
- নিয়মিত হাঁটা ও শ্বাসের ব্যায়ামে মানসিক চাপ কমানো
- মাসে ১০ দিনের বেশি ব্যথানাশক না খাওয়া
মাথাব্যথা যদি বারবার হয়, কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় বা ধরন বদলে যায় — একজন নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। সঠিক ধরন নির্ণয় হলে চিকিৎসাও সহজ হয়।