বয়স বাড়লে মাঝে মাঝে চশমা কোথায় রাখলাম বা কারও নাম মনে না পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু ভুলে যাওয়া যদি দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে, তাহলে তা ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ-এর লক্ষণ হতে পারে। ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো আলঝেইমার রোগ।
স্বাভাবিক ভুলে যাওয়া বনাম ডিমেনশিয়া
| স্বাভাবিক বয়সজনিত | ডিমেনশিয়ার সন্দেহ |
|---|---|
| নাম ভুলে গিয়ে পরে মনে পড়ে | সাম্প্রতিক ঘটনা একেবারেই মনে থাকে না |
| মাঝে মাঝে জিনিস হারানো | জিনিস অদ্ভুত জায়গায় রাখা (যেমন ফ্রিজে চাবি) |
| সঠিক শব্দ খুঁজতে একটু সময় লাগা | কথোপকথন অনুসরণ করতে না পারা, একই প্রশ্ন বারবার |
| নিজের কাজ নিজে করতে পারা | টাকা-পয়সার হিসাব, রান্না বা পরিচিত রাস্তায় চলতে সমস্যা |
অন্যান্য সতর্ক সংকেত
- দিন-তারিখ বা জায়গা গুলিয়ে ফেলা
- ব্যক্তিত্ব ও আচরণে পরিবর্তন — সন্দেহপ্রবণতা, রাগ, অস্থিরতা
- আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, সামাজিকতা থেকে সরে যাওয়া
- রাতে ঘুম না হওয়া ও অস্থিরতা
রোগ নির্ণয়
নিউরোলজিস্ট রোগী ও পরিবারের সাথে কথা বলে, স্মৃতিশক্তির কিছু সহজ পরীক্ষা নিয়ে এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা ও মস্তিষ্কের CT/MRI করে কারণ নির্ধারণ করেন। রোগীর সাথে এমন একজন আত্মীয় আসা উচিত যিনি দৈনন্দিন পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করেছেন।
চিকিৎসা ও যত্ন
আলঝেইমারের কিছু ওষুধ রোগের অগ্রগতি ধীর করতে ও লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে। তবে ওষুধের পাশাপাশি পরিবারের যত্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
- প্রতিদিনের রুটিন একই রাখুন
- ক্যালেন্ডার, ঘড়ি ও লেখা নোট ব্যবহার করুন
- ধৈর্য ধরে, ছোট বাক্যে কথা বলুন — তর্ক করবেন না
- রোগীকে একা বাইরে যেতে দিলে পকেটে নাম-ঠিকানা-ফোন নম্বর রাখুন
- পরিচর্যাকারী নিজেও বিশ্রাম ও সহায়তা নিন
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে
প্রেসার, সুগার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটা, ধূমপান বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম, বই পড়া ও সামাজিক মেলামেশা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।