সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় দেখলেন মুখের এক পাশ ঝুলে গেছে, চোখ বন্ধ হচ্ছে না, পানি খেতে গেলে মুখের কোণা দিয়ে পড়ে যাচ্ছে — এমন অভিজ্ঞতা খুবই ভীতিকর। এর সবচেয়ে সাধারণ কারণ বেলস পালসি, যা মুখের স্নায়ুর (ফেসিয়াল নার্ভ) হঠাৎ প্রদাহজনিত দুর্বলতা।
বেলস পালসির লক্ষণ
- কয়েক ঘণ্টা থেকে এক-দুই দিনের মধ্যে মুখের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া
- আক্রান্ত পাশের চোখ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া
- কপাল কোঁচকাতে না পারা
- কানের পেছনে ব্যথা, শব্দ বেশি জোরে শোনা, জিভে স্বাদ কমে যাওয়া
স্ট্রোক নাকি বেলস পালসি?
একটি সহজ পার্থক্য: বেলস পালসিতে কপালসহ মুখের পুরো এক পাশ দুর্বল হয় — রোগী ওই পাশে কপাল কোঁচকাতে পারেন না। স্ট্রোকে সাধারণত মুখের নিচের অংশ বেঁকে যায় কিন্তু কপাল কোঁচকানো যায়, এবং প্রায়ই হাত-পায়ের দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া থাকে।
চিকিৎসা — সময়ই আসল
লক্ষণ শুরুর প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করলে সেরে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদাহ কমানোর ওষুধ দেন। প্রায় ৭০-৮৫% রোগী কয়েক সপ্তাহ থেকে তিন মাসের মধ্যে পুরোপুরি বা প্রায় পুরোপুরি সেরে ওঠেন।
চোখের যত্ন — সবচেয়ে বেশি অবহেলিত
চোখ বন্ধ না হলে কর্নিয়া শুকিয়ে ক্ষত হতে পারে। তাই:
- দিনে কয়েকবার চিকিৎসকের দেওয়া কৃত্রিম চোখের পানি (ড্রপ) ব্যবহার করুন
- রাতে চোখে মলম দিয়ে আলতো করে টেপ বা প্যাড দিয়ে বন্ধ রাখুন
- বাইরে গেলে চশমা পরুন — ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাবে
মুখের ব্যায়াম
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কপাল কোঁচকানো, চোখ বন্ধ করা, হাসা, শিস দেওয়ার ভঙ্গি ও গাল ফোলানোর হালকা ব্যায়াম করুন। জোরে ম্যাসাজ বা গরম সেঁক দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ঝাড়-ফুঁক বা “বাতাস লেগেছে” ভেবে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।